35th Bcs Written English 1st Paper Question
Translate the following passage into English:—
9.
ষাটোর্ধ মুক্তিযোদ্ধা স্বর্ণলতা ফলিয়া কাজ করছেন বীরাঙ্গনাদের সংগঠিতকরণ ও পুনর্বাসনের। ৮ নম্বর সেক্টরের এই মুক্তিযোদ্ধা হেমায়েত বাহিনীর অধীনে যুদ্ধ করেছেন।নারিকেলবাড়ী ক্যাম্প থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে মহিলা মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রহের পাশাপাশি নিজেও অনেক সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ নেন। এরপর দেশ স্বাধীন হলে বীরাঙ্গনাদের পুনর্বাসনের কার্যক্রম শুরু করেন। সেই থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৩৬ জন বীরাঙ্গনাকে একত্র করে তাদের চিকিৎসা, চাকরি এবং অধিকার আদায়ের কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন স্বর্ণলতা। স্বর্ণলতার জন্ম ১৯৫৪ সালের ৬ অক্টোবর গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়া উপজেলার সোনাইলবারী গ্রামে। কৃষক বাবা নিশিকান্ত ফলিয়া ও মা মারিয়া ফলিয়ার সাত সন্তানের মধ্যে তিনি পঞ্চম।কোটালিপাড়া উপজেলার নারিকেলবাড়ী মিশনারি স্কুলের নবম শ্রেণীতে পড়ার সময় দেশে বেজে উঠে যুদ্ধের দামামা। একদিন আশালতা বৈদ্য এসে বললেন, “দেশে যুদ্ধ শুরু হচ্ছে,আমিতো যুদ্ধ করবো। তরা কে কে আমার সাথে যুদ্ধে যাবি।” –এ কথা শুনে স্বর্ণলতা চুপ থাকতে পারেনি।এক কথায়ই রাজি হয়ে গেলেন।আশালতা বৈদ্যের সাথে যুদ্ধের ট্রেনিং নেয়ার আগে সহপাঠী বন্ধুরা মিলে এলাকায় ঘুরতেন আর মহিলা মুক্তিযোদ্ধা জোগাড় করতেন। আর সুযোগ পেলেই বন্ধুদের সাথে ঘরের মা-বোনদের নিয়ে “অস্ত্র ধরো, স্বাধীন বাংলা রক্ষা করো” স্লোগান দিতেন।পরবর্তী সময়ে আরও ৩০ জন সদস্য নিয়ে তিনি হেমায়েত বাহিনীর কাছ থেকে অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। যুদ্ধে বেশ কয়েকটি অপারেশনে অংশ নিলেও দুটি অপারেশন ছিল উল্লেখযোগ্য। এর একটিতে পাক বাহিনীর বেশ কয়েকটি লঞ্চ ডুবিয়ে দিয়েছিলেন। আর একটি অপারেশন করেছিলেন নদীতে। সেই অপারেশনে তার পাশে থাকা দুই মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন, বীরবিক্রম হেমায়েতউদ্দিনের গালে গুলি লাগে। অল্পের জন্য সেদিন প্রাণে বেঁচে গেলেও আহত হয়েছিলেন স্বর্ণলতা।স্বাধীনতা -পরবর্তী সময়ে আর্থিক অভাব- অনটনের কারণে ঢাকা মেডিক্যালের কাছাকাছি কাজের সন্ধান করতে থাকেন। ঘটনাচক্রে পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা ও অসুস্থ বীরাঙ্গনাদের সহযোগিতা করার কারণেই মেডিক্যালেই দু’বেলা দুমুঠো খাবারের ব্যবস্থা হয়ে যায়। বঙ্গবন্ধু যখন বীরাঙ্গনাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন, স্বর্ণলতা তখন রাস্তা ও অন্যান্য জায়গা থেকে বীরাঙ্গনাদের নিয়ে আসতেন ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোতে।পরবর্তী সময়ে যখন বীরাঙ্গনাগণ পুনর্বাসন কেন্দ্র ত্যাগ করেন, তখনো তিনি তাদের সাহায্য করার চেষ্টা করেছেন। বিভিন্ন অফিস-আদালত ও মন্ত্রণালয়ে ঘোরাঘুরি করে বীরাঙ্গনাদের চাকরির চেষ্টা যেমন করেছেন, তেমনকরেছেন তাদের চিকিৎসাসহ অন্যান্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কাজ। অন্যের কষ্টকে যিনি নিজের কষ্ট মনে করে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছেন, বীরাঙ্গনাদের সেই পরম সতীর্থ মুক্তিযোদ্ধা স্বর্ণলতা ফলিয়া নিজের সুখ-আহলাদ ও অধিকার নিয়ে ভাবেননি। একমাত্র মেয়েকে গ্র্যাজুয়েট করিয়েছেন যাতে তার মেয়ে নিজের ও অপরের অবলম্বন হতে পারেন। আজ অবধি কোন সরকারি স্বীকৃতি না-পাওয়া স্বর্ণলতা বাস করেন তেজগাঁও বস্তির ঘিঞ্জি এক ঘরে। মুক্তিযোদ্ধা স্বর্ণলতা ফলিয়ার যুদ্ধ এখনোথামেনি।[35th Bcs Written Question : 2015]