Answer শৃঙ্খলিত সিংহের চেয়ে স্বাধীন গাধা উত্তম শৃঙ্খল মানুষকে, যে-কোন প্রাণীকে, রোধ ও বিনাশ করে ; মানুষের মুখ্য লক্ষণ সৃষ্টিশীলতা, যার অন্য নাম প্রতিভা ; ওই সৃষ্টিশিলতার, প্রতিভার, বিকাশের প্রথম শর্ত স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন । স্বাধীনতা শুধু রাজনীতিক হ'লে চলে না ; তথাকথিত স্বাধীন রাষ্ট্রের অধিবাসী মাত্রই যে স্বাধীন এমন নয়, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধোত্তর্কালে এ গ্রহের মাঠেঘাটে জন্ম নিতে থাকে নতুন পতকাখচিত রাষ্ট্র, এবং তাদের অধিবাসীরা অধীন হয়ে পড়ে দেশী ঔপনিবেশিকদের। তাই এমন ব্যাপার বেশ সুলভ হয়ে উঠেছে এখন যে রাষ্ট্রটি স্বাধীন, কিন্তু তার অধিবাসীরা স্বাধীনতাহীন । এমন অবস্থা ক্ষতিকর পরাধীনতার চেয়েও, কেননা রাজনৈতিক পরাধীনতার মধ্যে যে - দ্রোহ ও স্বাধীনতাস্পৃহা থাকে জাতির চেতনাস্রোতে, ছদ্মস্বাধীনতায় তাও থাকে না । ছদ্মস্বাধীনতা নষ্ট করে সব কিছু:- দ্রোহ, স্বাধোনতাস্পৃহা, মেধা ও প্রতিভা। স্বাধীন দেশে স্বাধীকার্হীনতা এক ভয়াবহ ব্যাপার, তাতে সমগ্র জাতি পরিণত হয় দাসে বা জন্তুতে, এবং এক সময় তা বিলুপ্ত হ'ইয়ে যেতে বাধ্য । এমন দেশে স্বাধীনতা পায় একমুঠো মানুষ, যারা শক্তিমান কিন্তু প্রতিভাবান নয় ; সারা দেশ হয়ে উঠে তাদের স্বেচ্ছাচারের লীলাভূমি । কিন্তু যে-কোন জাতির বিকাশের জন্যে অপরিহার্য স্বাধীনতা আর স্বায়ত্তশাসন । কোনো রাষ্ট্রে কেউ হবে অবাধ স্বাধীন, আর বিপুল জনমন্ডলি হবে পরিমিতভাবে স্বাধীন, এমন অবস্থা জাতির দূরারোগ্য ব্যাধির লক্ষণ । রেশন করা স্বাধীনতা পরাধীনতার চেয়েও অনিষ্টকর ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্যের কবিতার একটি লাইন ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমা চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি। আসলে বিংশ শতাব্দীর অধিকাংশ বাঙালীরা ক্ষুধার সাথে খুব পিরিচিত, হয়তো তারা পূর্ণিমা চাঁদকে ঝলসানো রুটি মনে করে তার দিকে তাকিয়ে থাকতো। কিন্তু বর্তমানে বাঙালীদের পেক্ষাপট পরিবর্তন হয়েছে। এখন দেশ উন্নয়নের দিকে। কিন্তু আজ ও হাজার হাজার বাঙালীর সন্তান যারা বস্তির অধিবাসী, টোকায়, দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরিত দুবেলা দুমুঠো খাবার জোগার করতে পারে না- তাদের কাছে ঝলসানো রুটিকে আকাশের পূর্ণিমা চাঁদের মতোই আরাধ্য লাগে।