Answer বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি ভূ-প্রকৃতি (Physiography) সমগ্র পৃথিবী বা তার কোন অংশের প্রাকৃতিক বস্ত্তসমূহের বর্ণনা; বিশেষ করে, তাদের প্রকৃতি, গাঠনিক উপাদান, সজ্জা বিন্যাস, পরিবর্তন প্রভৃতির বিস্তারিত বিবরণ।বাংলাদেশের ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় অর্ধেক অংশ গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনা এই তিনটি বৃহৎ নদীপ্রণালীর সর্বনিম্ন ভাটিতে অবস্থিত এবং গড় উচ্চতা ১০ মিটার সমোন্নতি রেখার নিচে। উচ্চতা ও ভূমিরূপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে প্রধান তিনটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে: (১)টারশিয়ারী যুগের পাহাড়, (২)প্লাইসটোসিন সোপান এবং (৩) নবীন যুগের প্লাবনভূমি এলাকা। সমুদ্র সমতল থেকে খুব বেশি উঁচু না হওয়ায় প্রতি বছর প্রবল মৌসুমি বর্ষণের ফলে দেশের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। গনঠ-পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র (যমুনা) ও মেঘনা নদী এবং তাদের অসংখ্য উপনদী ও শাখানদী বাহিত কোয়াটারনারি যুগের (প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্ব থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত) পলল বাংলাদেশের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এলাকায় সঞ্চিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়কালে পলিজ সমভূমির মধ্য, উত্তর এবং পশ্চিম অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। বিগত দুশ বৎসরে গঙ্গা এবং তিস্তা নদীর পূর্বমুখী স্থানান্তর এবং সেই সঙ্গে ব্রহ্মপুত্রের উল্লেখযোগ্যভাবে পশ্চিমমুখী স্থানান্তর সাম্প্রতিক সময়কালেও মহীগাঠনিক ভূ-আলোড়নের সাক্ষ্য বহন করছে। টারশিয়ারী যুগের টিলা ও পাহাড়সমূহ শিলং মালভূমির দক্ষিণ পার্শ্বীয় শৈলশিরায় একটি সরু চিলতে বরাবর ভারতের ত্রিপুরা ও মিজোরাম রাজ্য এবং মায়ানমারের সীমানা ঘেঁষে সিলেট জেলার পূর্ব ও দক্ষিণভাগে এবং দেশের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জুড়ে বিস্তৃত।
পার্বত্য চট্টগ্রাম পার্বত্য চট্টগ্রাম (Chittagong Hill Tracts) বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি এলাকা, যা তিনটি জেলা, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ও বান্দরবান নিয়ে গঠিত। চট্টগ্রাম বিভাগের এই এলাকা পাহাড় ও উপত্যকায় পূর্ণ বলে এর নামকরণ হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা প্রধান নদী হল কর্ণফুলী। এই নদীতে বাঁধ দিয়ে কাপ্তাইতে গড়ে তোলা কাপ্তাই হ্রদে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। মুঘল সাম্রাজ্য ১৬৬৬ হতে ১৭৬০ সাল পর্যন্ত এলাকাটি সুবা বাংলার অধীনে শাসন করে। ১৭৬০ সালে ব্রিটিস ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই এলাকা নিজেদের আয়ত্বে আনে। ১৮৬০ সালে এটি ব্রিটিশ ভারতের অংশ হিসাবে যুক্ত হয়। ব্রিটিশরা এই এলাকার নাম দেয় চিটাগাং হিল ট্র্যাক্ট্স বা পার্বত্য চট্টগ্রাম। এটি চট্টগ্রাম জেলার অংশ হিসাবে বাংলা প্রদেশের অন্তর্গত ছিল। ১৯৪৭ সালে এই এলাকা পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এটি বাংলাদেশের জেলা হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৮০ এর দশকের শুরুতে পার্বত্য চট্টগ্রামকে তিনটি জেলা - রাঙামাটি, বান্দরবান, ও খাগড়াছড়িতে বিভক্ত করা হয়।