Answer ক। জাতিসংঘের সহস্রাব্দের লক্ষ্যমাত্রা জাতিসংঘ কর্তৃক যেসব-লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছিল, তার একটি হলো শিশু-মৃত্যুহার হ্রাস করা। সহস্রাব্দের শুরুতে ২০০০ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদর অধিবেশনে আটটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। লক্ষ্যমাত্রা পূরণের সময়ও নির্ধারণ করা হয়েছিল। ১৫ বছরে এ টার্গেট পূরণ করা হবে। একে বলা হয় সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা_ইংরেজিতে সংক্ষেপে বলা হয় 'এমডিজি' (মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলস্)।নির্ধারিত সময়ের দুই-তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত হয়েছে। সামগ্রিকভাবে গোটা বিশ্বের ক্ষেত্রে এ টার্গেটের ধারেকাছেও যাওয়া সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশও টার্গেট থেকে অনেক দূরে। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো হচ্ছে : ১. চরম দারিদ্র্য ও ক্ষুধা নির্মূলকরণ, ২. সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা, ৩. নারী-পুরুষ সমতা অর্জন. ৪. শিশু মৃত্যু হার কমানো, ৫. মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন, ৬. এইচআইভি বা এইডস, ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য রোগনিয়ন্ত্রণ, ৭. পরিবেশগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং ৮. উন্নয়নর ক্ষেত্রে বৈশ্বিক অংশীদারি গড়ে তোলা।
খ। আরব বসন্ত ২০১০ সালের শুরু থেকে আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বয়ে যাওয়া গণবিপ্লবের ঝড়কে পশ্চিমা সাংবাদিকরা আরব বসন্ত হিসাবে আখ্যায়িত করেছে। গণবিক্ষোভের শুরু মিশরে; এরপর তা লিবিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেন সহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে যায়। প্রথমে মিশরে প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের পতন হয়। পরে লিবিয়ায় মুয়াম্মর আল-গাদ্দাফি জামানার অবসান হয়। আরব বিশ্বের এই গনঅভ্যূত্থানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং এর ইউরোপীয় ন্যাটোভুক্ত সহচর রাষ্ট্রগুলো অস্ত্র সরবরাহ করে এবং সরাসরি আঘাত হেনে ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রনায়কের পতন ঘটায়।উইকিপিডিয়া ঙ। বিশ্বায়ন (Globalization): বিশ্বায়ন হল একটি প্রক্রিয়া যার সাহায্যে রাষ্ট্রকেন্দ্রিক সংস্থা বা
এজেন্সি বিশ্ব জুড়ে নিজেদের মধ্যে নানা প্রকার সম্পর্ক গড়ে তোলে। সম্পর্ক
স্থাপনের পেছনে থাকে নানা ধরনের কারকের সক্রিয় অংশগ্রহণ। কারকগুলো নিজেদের
মধ্যে যখন সম্পর্ক গড়ে তোলে তখন তা নিজক আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মধ্যে আবদ্ধ
থাকে না। বিশ্বায়নের সঙ্গে সমগ্র বিশ্বের নানাবিধ বিষয় যেমন- অর্থনীতি,
বাণিজ্য, যোগাযোগ, রপ্তানি, শিল্পায়ন ইত্যাদি নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত। সারা বিশ্বে ব্যবসা বাণিজ্য প্রসার করার জন্য একটি সীমানাহীন বাজার তৈরি করার পদ্ধতি। কিন্তু মানুষের জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। যোগাযোগ মাধ্যমের অত্যাধুনিক উন্নতি এবং দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা দুনিয়াটাকে আরো কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। বিশ্বের সবগুলো দেশ একটি গ্রামের বিভিন্ন পরিবারের মত।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডঞঙ) মহাপরিচালক বিশ্বায়নের সাথে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোকে সংশ্লেষিত করেছেন- ১. মুক্ত বাণিজ্য নীতি; ২. বাজার ব্যবস্থার প্রাধান্য; ৩. বিশ্ব অর্থনীতির একত্রীকরণ; ৪. উৎপাদন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ; ৫. বেসরকারিকরন; ৬. মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা; ৭. রপ্তানিমুখী শিল্পায়নের প্রতি গুরুত্বারোপ; ৮. অর্থনীতিতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ হ্রাস ইত্যাদি।
চ। ইন্টারপোল ইন্টারপোল বা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইংরেজি: International Criminal Police Organization – INTERPOL)[১] একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা যার প্রধান কাজ আন্তর্জাতিক পুলিশকে সহায়তা করা। এটি ১৯২৩ সালে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ কমিশন নামে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৫৬ সালে বর্তমানের নামে পরিবর্তিত হয়। ইন্টারপোলের বর্তমান সদস্য ১৮৮টি দেশ এবং এই সদস্যরাই বাৎসরিক চাদার মাধ্যমে ৫৯ মিলিয়ন ডলারের বাৎসরিক খরচ নির্বাহ করে। এর প্রধান দপ্তর লিয়োঁ, ফ্রান্স-এ। এটি জাতিসংঘ-এর পর দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তর্জাতিক সংস্থা।