Answer
ক) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ জাতিসংঘের ছয়টি প্রধান অঙ্গের অন্যতম জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ (ইংরেজি: United Nations Security Council (UNSC))বা নিরাপত্তা পরিষদ, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এর কাজ।নিরাপত্তা পরিষদের শান্তিরক্ষা অপারেশন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন মাধ্যমে সামরিক অভিযানের ক্কষমতা আছে, এটি জাতিসংঘের এমন একটি অঙ্গ, যেটি থেকে জারি করা রেজুলেশন সদস্য দেশগুলোর জন্য মানা বাধ্যতামূলক। নিরাপত্তা পরিষদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় ১৭ জানুয়ারী ১৯৪৬।নিরাপত্তা পরিষদের পনের সদস্য নিয়ে গঠিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ী পাঁচ পরাশক্তি - চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র স্থায়ী সদস্য। এই স্থায়ী সদস্যদের নিরাপত্তা পরিষদের রেজল্যুশন, নতুন সদস্য দেশ অন্তর্ভুক্তি বা মহাসচিব প্রার্থীর নিয়োগে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা আছে। এছাড়াও ১০ জন অস্থায়ী সদস্য আছে, যারা নিদিষ্ট অঞ্চল থেকে ২ বছরের জন্য নির্বাচিত হন।
গ) নরম্যান্ডির যুদ্ধ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রবাহিনী যে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে পশ্চিম ইউরোপে নাৎসি জার্মানি নেতৃত্বাধীন অক্ষবাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণের সূচনা করেছিল,ইহাই ইতিহাসে নরম্যান্ডির যুদ্ধ। অপারেশান ওভারলর্ড সেই অভিযানের সামরিক নাম। ১৯৪৪ সালের ৬ জুন ইংলিশ চ্যানেল সংলগ্ন ফ্রান্সের নরম্যান্ডি অবতরণের মাধ্যমে অপারেশান ওভারলর্ডের অধীনে মিত্রবাহিনীর ব্যাপক আক্রমণ শুরু হয়। প্রাথমিক ভাবে নরম্যান্ডিতে অবতরণের লক্ষ্যে ৬ জুন তারিখে মার্কিন, ব্রিটিশ ও কানাডীয় মোট ১৬০,০০০ সৈন্য ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করে। পরবর্তীকালে আগস্ট মাস পর্যন্ত আরও তিরিশ লক্ষাধিক সৈন্য এই অভিযানে প্রেরণ করা হয়।নরম্যান্ডি সহ অন্যান্য উপকূলগুলো দখলের পর তিন সপ্তাহ যাবৎ শক্তি সঞ্চয়ের প্রক্রিয়া চলতে থাকে, যার পরে অপর একটি সামরিক অভিযান কোবরার অধীনে নরম্যান্ডি থেকে মিত্রবাহিনী ইউরোপের গভীরে আক্রমণ ছড়িয়ে দেয়ার কাজ শুরু করে। নরম্যান্ডিকে কেন্দ্র করে চলতে থাকা যুদ্ধের ব্যাপ্তি ছিল প্রায় দু’মাস যেখানে অন্যান্য মিত্র রাষ্ট্রসমূহ আকাশপথে ও নৌপথে যে যেভাবে পারে অবদান রাখছিল। অপারেশান ওভারলর্ডের ফলশ্রুতিতে ২৫ আগস্ট তারিখে প্যারিসকে নাৎসি জার্মানির দখলমুক্ত করা হয়।
চ) আন্তর্জাতিক বিচার আদালত। আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত (ইংরেজি: International Court of Justice; ফরাসি: Cour internationale de Justice; মূলত আন্তর্জাতিক আদালত নামে পরিচিত। এটির সদর দপ্তর হেগ, নেদারল্যান্ডে। এটির প্রধান কাজ স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে আইনী বিরোধ নিষ্পত্তি করা এবং বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাকে আইন বিষয়ে পরামর্শ মতামত দেয়া।জাতিসংঘ দ্বারা ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। আদালত ১৯৪৬ সালে কার্যক্রম শুরু করে, আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের স্থায়ী আদালতের উত্তরসুরি হিসাবে।আন্তর্জাতিক আদালত ৯ বছর মেয়াদি ১৫ জন বিচারক দ্বারা পরিচালিত। বিচারকগন স্থায়ী সালিস আদালতের মনোনীত তালিকা থেকে জাতিসংঘ সাধারন পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক নির্বাচিত হয়ে থাকে।