৩০তম বিসিএস বাংলাদেশ বিষয়াবলী প্রথম পত্র (লিখিত)২০১১
[দ্রষ্টব্যঃ- বাংলা অথবা ইংরেজী যে কোনো একটি ভাষায় প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।প্রার্থীদিগকে ১নং এবং ২নং প্রশ্নের এবং অবশিষ্ট প্রশ্নের যে কোনো তিনটির উত্তর দিতে হবে।]
Answer
উত্তর: ন্যায়পাল ন্যায়পাল (Ombudsman)জবাবদিহিতামূলক পদ বা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১৮০৯ সালে সুইডেনে প্রথম প্রবর্তিত হয় এবং ক্রমান্বয়ে অন্যান্য দেশে এই ব্যবস্থা চালু হয়। সুইডিশ ভাষায় Ombudsmanবা ন্যায়পাল বলতে এমন একজন সরকারি মুখপাত্র বা প্রতিনিধি কিংবা সরকারি কর্মকর্তাকে বোঝায় যিনি সরকারি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্ত করেন। সরকারি আমলা ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী সরকারি এজেন্ট হিসেবে ন্যায়পাল থাকেন স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য ও অভিগম্য। বিভিন্ন ধরনের অভিযোগের তদন্ত ও সে সম্পর্কে রিপোর্ট পেশ করার ক্ষমতা ন্যায়পালের ওপর অর্পিত হয়। বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদে জাতীয় সংসদ কর্তৃক ন্যায়পাল নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। উক্ত অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে যে, ন্যায়পাল কোনো মমত্রণালয়, সরকারি কর্মচারী বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের যেকোন কাজ সম্পর্কে তদন্ত পরিচালনা করবেন এবং সংসদ যেরূপ ক্ষমতা ও দায়িত্ব অর্পণ করবে সে অনুযায়ী তা প্রয়োগ করবেন।
(গ) মানব সম্পদ উন্নয়ন ও তথ্য প্রযুক্তি। দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হলে দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তোলা অত্যাবশ্যক। উন্নত দেশের ইহাই মূল চালিকাশক্তি। ব্যক্তিগত জীবনেও উন্নতির জন্য স্ব-স্ব ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন একান্ত প্রয়োজন। তবে দক্ষতা রাতারাতি অর্জন করা সম্ভব নহে। মূলত, উন্নত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ এবং কর্মপরিবেশের উন্নয়নের মাধ্যমে ইহার অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।মানব সম্পদ উন্নয়নের জন্য আগে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সঠিকভাবে ঢেলে সাজাতে হবে। শিক্ষা হতে হবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর।প্রযুক্তি মানুষকে পরিবর্তিত বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তথ্য-জ্ঞান-দক্ষতা-কৌশল-প্রবণতা এবং যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ করে তোলে। কার্ল মার্কসের ভাষায় -, “প্রযুক্তি হচ্ছে মানুষের প্রতিদিনের সাথী। প্রযুক্তি মানুষকে যোগায় জীবন সহায়ক ব্যবস্থা বা লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম, যে কারনে মানুষ পৃথিবীতে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়ার শক্তি অর্জন করে।”তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে মানুষের জীবন হয়েছে এখন অনেক সহজ, সরল এবং স্বাচ্ছন্দ্যময়। ঘরে বসে বিশ্ব ভ্রমণ, মার্কেটিং, ব্যাংকিং বিভিন্ন ধরনের সার্ভিস কিম্বা ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে ঘোরা ঘুরি করা এখন একেবারে সহজ। তাইতো এখন মানুষের এমন কোন কাজ নেই যেখানে প্রযুক্তির ছোয়া লাগেনি। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পৃথিবীর দরিদ্র জনগোষ্টির জন্য খুলে দিয়েছে অপার সম্ভাবনার দুয়ার। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় কৃষি বিপ্লব, শিল্প বিপ্লবের পর বর্তমান পৃথিবী নতুনতর এক বিপ্লবের মুখোমুখি হতে চলেছে যার নাম তথ্য বিপ্লব। একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যদি এই শতাব্দীকে নতুন কোন নামে অভিহিত করা হয় তবে তথ্য প্রযুক্তির শতাব্দী হবে তার জন্য উপযুক্ত। বর্তমান শতাব্দীর গ্লোবালাইজেশনের ফলে একটি দেশের উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি অন্যতম নিয়ামকের ভূমিকা পালন করছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির হাতিয়ার হচ্ছে কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট । কম্পিউটার এবং ইন্টারনেটের বদৌলতে পৃথিবী এখন গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত হয়েছে। বলা চলে পৃথিবী হাতের মুঠোয় নয় আঙুলের ডগায় চলে এসেছে। কম্পিউটার প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার এবং সফল প্রয়োগ যে কোন অনুন্নত দেশকে উন্নত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালনে সচেষ্ট। কম্পিউটার এমন এক ধরনের প্রযুক্তি যার মাধ্যমে শিক্ষা, চিকিৎসা, বিনোদন, অর্থনীতি, রাজনীতি, বিনিয়োগ, ব্যবসা-বানিজ্য, পরিকল্পনা, গবেষণা, নিয়ন্ত্রণ, ডিজাইন ইত্যাদি বিষয়াবলীকে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংযুক্ত করা সম্ভব। আর এই তথ্য প্রবাহ একটি সম্বন্বিত সূত্রে গ্রথিত হয়ে পৃথিবীর সকল জাতি, ধর্ম, বর্ণ-গোষ্ঠীর মানুষকে সম্বন্বিত তথ্য প্রবাহের সঙ্গে অবিরাম সংযুক্ত রাখতে সচেষ্ট।আমরা দেখেছি বিংশ শতাব্দীতে তথ্যের আদান প্রদান হয়েছে টেলিগ্রাফ, টেলিফোন, টেলিফ্যাক্স, টেলেক্স, পোষ্টাল, কুরিয়ার সার্ভিস ইত্যাদির মধ্যে দিয়ে, কিন্তু বর্তমানে বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধিত হওয়ায় এখন আর এই সমস্ত মাধ্যম নতুন কিছু নয় । ওয়ার্ল্ড সামিট অন ইনফরমেশন সোসাইটির জেনেভা ঘোষণা পত্রে আইসিটিকে দারিদ্র্য বিমোচনের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহারের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ঘোষণা পত্রের মূলনীতিতে নিম্নলিখিত ঘোষণা প্রদান করা হয়েছে।
আইসিটি অবকাঠামো গড়ে তোলা। সবার জন্য তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা। দক্ষতা বৃদ্ধি। সহায়ক পরিবেশ তৈরী । জীবনের সকল ক্ষেত্রে আইসিটির ব্যবহার নিশ্চিত করা । সকল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অক্ষুন্ন রেখে মাতৃভাষায় আইসিটি ব্যবহার নিশ্চিত করা। মত প্রকাশ এবং সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। তথ্য সমাজ গড়ার ক্ষেত্রে আর্ন্তজাতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা। এই সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিকে সূদুর প্রসারী করতে পৌছে দিতে হবে গণ মানুষের আঙিনায়। একে সহজলভ্য করতে ভূমিকা রাখতে হবে সরকারের নীতি নিধারক মহলকে, এগিয়ে আসতে হবে বেসরকারী প্রতিষ্টান সমূহকেও। মনে রাখতে হবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিই পারে দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে দেশের চেহারা পাল্টে দিতে, পৌছে দিতে পারে উন্নয়নের শীর্ষ চূড়াঁয়।
(ঘ) বাংলা একাডেমী। বাংলা একাডেমি ১৯৫৫ সালের ৩রা ডিসেম্বর ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা, গবেষণা ও প্রচারের লক্ষ্যে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশে) এই একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন-পরবর্তী কালের প্রেক্ষাপটে বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার দাবি ওঠে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন "বর্ধমান হাউজ"-এ এই একাডেমির সদর দপ্তর স্থাপিত হয়। একাডেমির "বর্ধমান হাউজে" একটি "ভাষা আন্দোলন জাদুঘর" আছে।এই প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বাংলা একাডেমি একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। একাডেমির কার্যনির্বাহী প্রধান হিসেবে রয়েছেন একজন মহাপরিচালক। এর প্রথম মহাপরিচালক ছিলেন প্রফেসর মযহারুল ইসলাম যিনি ২ জুন ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দ তারিখ থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। বর্তমান ২০০৯ থেকে মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন শামসুজ্জামান খান। বাংলা একাডেমীর প্রধান ভবন বর্ধমান হাউজ
বাংলা একাডেমির বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য ৪টি বিভাগ রয়েছে। এই বিভাগগুলো হচ্ছে:
গবেষণা, সঙ্কলন ও ফোকলোর বিভাগ
ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও পত্রিকা বিভাগ
পাঠ্যপুস্তক বিভাগ
প্রাতিষ্ঠানিক পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ বিভাগ
বাংলা একাডেমির প্রথম প্রকাশনা “বাংলা একাডেমি পত্রিকা” প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ১৯৫৭-র জানুয়ারী মাসে।উত্তরাধিকার। - এটি একটি সৃজনশীল মাসিক সাহিত্য পত্রিকা এটি ১৯৭৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। দশ বছর পত্রিকাটি মাসিক পত্রিকা হিসেবে চালু থাকলেও ১৯৮৩ সাল থেকে ত্রৈমাসিকে রূপান্তরিত হয় এবং পত্রিকাটি ধীরে ধীরে অনিয়মিত হয়ে পড়ে। ২০০৯ সালের জুলাই থেকে মাসিক হিসেবে এটি প্রতিমাসে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। বাংলা একডেমি পত্রিকা। এটি একটি গবেষণামুলক ত্রৈমাসিকপত্রিকা । বাংলা একাডেমি বার্তা বাংলা একাডেমির ত্রৈমাসিক মুখপত্র লেখা ২০০৯ সালের আগস্ট থেকে ‘বাংলা একাডেমি বার্তা’নামে প্রকাশ করা হচ্ছে।বাংলা একডেমি বিজ্ঞান পত্রিকা। - এটি ষাণ্মাসিক বিজ্ঞান পত্রিকা।ধানশালিকের দেশ। - এটি একটি কিশোর ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা।
(চ) বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (BCSIR)
বিসিএসআইআর
বা বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ, বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে
পরিচালিত গবেষণা প্রতিষ্ঠান। ১৯৭৩ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডে অবস্থিত । এটি সাইন্স ল্যাবরেটরি নামেও পরিচিত । বর্তমানে এই পরিষদের ৬টি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান রয়েছে।