Answer উত্তরঃ আল মাহমুদ সমগ্র বাংলা কবিতার ইতিহাসে 'সোনালী কাবিন' একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। 'সোনালী কাবিন' কাব্যে আল মাহমুদ লোকজ ও আঞ্চলিক শব্দের সমন্বয়ে উদ্ভাবন করেন এক ধরণের শব্দ জাদুময়তার।
সোনালী কাবিন – ১
সোনার দিনার নেই, দেনমোহর চেয়ো না হরিণী যদি নাও দিতে পারি কাবিনবিহীন হাত দুটি, আত্মবিক্রয়ের স্বর্ন কোনোকালে সঞ্চয় করিনি আহত বিক্ষত করে চারদিকে চতুর ভ্রুকুটি; ভালবাসা দাও যদি আমি দেব আমার চুম্বন, ছলনা জানিনা বলে আর কোনো ব্যাবসা শিখিনি দেহ দিলে দেহ পাবে দেহের অধিক মূলধন আমারতো নেই শখি, যেই পণ্যে অলংকার কিনি। বিবসন হও যদি দেখতে পাবে আমাকে সরল পৌরষ আবৃত করে জলপাই পাতাও থাকবেনা, তুমি যদি খাও তবে আমাকেও দিও সেই ফল জ্ঞানে ও অজ্ঞানে দোঁহে পরষ্পর হব চিরচেনা পরাজিত নই নারী, পরাজিত হয়না কবিরা; দারুণ আহত বটে আর্ত আজ শিরা- উপশিরা। এ -তীর্থে আসবে যদি ধীরে অতি পা ফেল সুন্দরী, মুকুন্দরামের রক্ত মিশে আছে এ মাটির গায়। ছিন্ন তালপত্র ধরে এসো সেই গ্রন্থ পাঠকরি কত অশ্রু লেগে আছে এই জীর্ণ তালের পাতায়। কবির কামনা হয়ে আসবেকি হে বন্য বালিকা অভাবের াজগর জেনো তবে আমার টোটেম, সতেজ খুনের মত এঁকে দেব হিঙুলের টিকা।
তার অন্যান্য রচিত কাব্যগ্রন্থঃ লোক লোকান্তর (১৯৬৩),কালের কলস (১৯৬৬),মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো (১৯৭৬),আরব্য রজনীর রাজহাঁস,বখতিয়ারের ঘোড়া, জিবরাইলের ডানা, ময়ূরীর মুখ ইত্যাদি।